• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

নীলফামারীর সরকারি খাদ্য গুদামে চাল খালাসে চাঁদাবাজির অভিযোগ

সিসি নিউজ ।। নীলফামারী সরকারি খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহে মিল মালিকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে গুদাম শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে। শহরের নূহা অটো রাইস মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রকিব হাসান বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরে ওই অভিযোগ করেন।
অভিযোগে ওই গুদাম শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মমিদুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক মো. তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরীকে কর্ম থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। গুদাম শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্ঠা আমজাদ হোসেন স্বক্ষরিত এক পত্রে তাদেরকে অব্যাহতি প্রদান করেন। ওই পত্র জারির পর বিকেলে ওই নেতার অনুপস্থিতিতে ট্রাক থেকে চাল ওঠানামার কাজ করেন শ্রমিকরা।
সৈয়দ রকিব হাসান অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি দীর্ঘ বছর ধরে সরকারি খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহ দিয়ে আসছি। গত ২৯ নভেম্বর নীলফামারীতে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী আমি গত ৩০ নভেম্বর সকালে নীলফামারী সরকারি খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহ দিতে গেলে লেবার সর্দার প্রতি ৩০ কেজির বস্তা চাল ট্রাক থেকে নামাতে ১০টাকা করে চাঁদা দাবি করেন। আমি ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা (শ্রমিকরা) আমার চাল না নামিয়ে সারা রাত ট্রাকে খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখেন।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজার মূল্য বেশি হওয়ার কারণে প্রতি কেজি চালে দুই টাকা করে ক্ষতি হচ্ছে। তার ওপর লেবার সর্দারের চাঁদাবাজি চললে সরকারের ধান চাল সংগ্রহ অভিযান বাধাগ্রস্ত হবে।’
এ বিষয়ে কথা বলতে নীলফামারী সরকারি খাদ্য গুদামে গিয়ে লেবার সর্দার মমিদুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। সেখানে কর্মরত শ্রমিক সংগঠনের কোষাধক্ষ্য মো. নূর ইসলাম বলেন,‘আগে আমরা প্রতি বস্তা চাল (৩০ কেজি) ওঠা নামার জন্য নয়টাকা করে নিতাম। এবার আমরা ১০টাকা দাবি করলে চাল কল মালিকদের সঙ্গে লেবার সর্দারের সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে মালামাল ওঠা নামার কাজ শুরু হয়।’
নীলফামারী সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তফিউজ্জামান জুয়েল বলেন, ‘খাদ্য গুদাম শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মমিদুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক মো. তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরীকে তাদের সংগঠনের উপদেষ্ঠা আমজাদ হোসেন স্বক্ষরিত পত্রে কর্ম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের অনুপস্থিতিতে শ্রমিকরা ট্রাক থেকে চাল ওঠানামার কাজ করছেন।’
তিনি জানান, ২০১৬ সাল থেকে খাদ্য গুদামে শ্রমিকদের মালামাল ওঠা নামার দরপত্র গ্রহন করা হয়নি। দৈনিক কাজের ভিত্তিতে সরকারিভাবে তাদেরকে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তারা বকসিস হিসেবে টাকা নেয়। একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে তারা গতকাল বাক বিতন্ডায় জড়ালে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়।
নীলফামারী সরকারি খাদ্য গুদাম শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্ঠা ও জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘চাল কল মালিক সৈয়দ রকিব হাসানের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংগঠনের প্রধান উপদেষ্ঠা নীলফামারী পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে গুদাম শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে কর্ম থেকে বিরত রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত তারা সেখানে কাজে যোগ দিতে পারবেন না।’


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ